আধুনিক পরিকাঠামোয় ঝাঁ চক চকে করে তোলা হচ্ছে পুর নিগমের অতিথি নিবাসগুলি - The News Lion

আধুনিক পরিকাঠামোয় ঝাঁ চক চকে করে তোলা হচ্ছে পুর নিগমের অতিথি নিবাসগুলি



দি নিউজ লায়ন;  শিলিগুড়ি শহরের পুর নিগমের অতিথি নিবাসের জীর্ণ দশার কারনে আবাসনের ওপর থেকে আগ্রহ হারিয়েছে শহরে আসা মানুষেরা। জরুরি কাজ বা  চিকিৎসার প্রয়োজনে তাই শত সমস্যাতেও শহরের বাইরে থেকে আসা নিম্ন মধ্যবিত্তদের স্বল্প দামে হোটেল বা লজ খুঁজতে হন্যে হতে হয়। বাম আমলের পর দীর্ঘ সময় শিলিগুড়ি পুরনিগম লাল ঝান্ডার দখলে থাকায় পুরভবন সহ পৌর অতিথিনিবাসের মান্ধাতার আমলের পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর পড়েনি পুরবোর্ডের। 


শিলিগুড়ি পৌরভবনের ঠিক উল্টোদিকে থাকা এই অতিথি নিবাসটির চেহারা দেখে যে কেউ প্রথম নজরে পরিত্যক্ত ভবন বলে তার পরিচিতি দেগে দেবে। বৃষ্টির নামলেই পুর আবাসনের চুইয়ে পড়ে জল। রঙ চটে শ্যাওলা আর ঝোঁপ জঙ্গল দখলে নিয়েছে পুরো পান্থনিবাসটি। বৃষ্টির জলে স্যাতেস্যাতে অবস্থা ঘরগুলির। আবাসনে মোট ১০টি ঘর থাকলেও তার ব্যালকনির পরিস্থিতি বীভৎস। 


একই দশা ঘরের ক্ষেত্রেও।ডবল বেডের ঘরে অধিকাংশই জীর্ণ,পরিকাঠামো একেবারে ভেঙে পড়েছে। কোন কামরায় বাথরুমের জলের কল আছে তো কোথাও বহুবছর ধরে তার হদিস নেই। তবে শহরের বাইরে থেকে জরুরি কাজে আসা নিম্ন মধ্যবিত্তদের ক্ষেত্র লজ বা হোটেল ভাড়ার থেকে অনেকটা কম খরচায় এই আবাসন হয়ে উঠতে পারে পছন্দের বিকল্প। 


তাই শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক বোর্ডের তরফে অত্যাধুনিক পরিকাঠামোয় পৌর অতিথি নিবাসটি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বল্প খরচে আধুনিক যাবতীয় সুযোগ সুবিধা মিলবে  অতিথিদের। এই কাজের দায়িত্বে থাকা পুরনিগমের ইঞ্জিনিয়ার জানান প্রথম ও দ্বিতীয় তলা মিলে অতিথি নিবাসের বহুতলে ছয়টি ভিভিআইপি কক্ষ তৈরি করা হচ্ছে। দ্বিতীয় তলের অতিরিক্ত তিনটি ঘর নিয়ে পুরোপুরি ভাবে এসি ডিলাক্স করা হবে। কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। 


ইতিমধ্যেই ভিভিআইপি তিনটি ঘরের কাজ শেষও হয়ে গিয়েছে। ডবল বেডের কামরা গুলির দিন প্রতি ৪০০টাকা পূর্বে থেকেই ধ্যার্য রয়েছে বলে জানান অতিথি নিবাসের কর্মীরা। বুকিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মী জানান মোট ১০টি কামরার মধ্যে ছয়টি ভিভিআইপি এসি ডিলাক্স হবে। তবে পৌর ভবনে নির্মাণ কাজ চলার সময় থেকেই গেস্ট হাউজের বুকিং ও পরিবেশ দপ্তর অতিথি নিবাসের দুটি কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। 


এই বিষয়ে শিলিগুড়ি পুর-নিগমের প্রশাসক বোর্ডের সদস্য রঞ্জন সরকার জানান শিলিগুড়ি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর। প্রতিদিন ব্যবসা, চিকিৎসার মতো জরুরী কাজে মানুষকে আসতে হয়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে প্রচুর মানুষ চিকিৎসা করাতে শিলিগুড়িতে আসেন। 


সেক্ষেত্রে চিকিৎসার ব্যায় ভারের পাশাপাশি শহরে বড় হোটেল বা লজ বুক করে থাকা তাদের পক্ষে সবসময় সম্ভব হয় না।সে সমস্ত মানুষেরা স্বল্প খরচে অত্যাধুনিক পরিকাঠামোয় থাকার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তিনি জানান যুব কল্যাণ দপ্তরের কাঞ্চনজঙ্ঘা অতিথি নিবাসটিও আধুনিক পরিকাঠামো উপযোগী করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.